২০২৬ সালের ৬ মে মিশরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীদের জন্য চালু হয়েছে ‘কায়রো মনোরেল’-এর পূর্ব নীল রুট, যা আফ্রিকার প্রথম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বা চালকবিহীন মনোরেল ব্যবস্থা। ৫৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটটি কায়রোর নাসর সিটির আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম এলাকা থেকে মরুভূমিতে গড়ে ওঠা নতুন প্রশাসনিক রাজধানী পর্যন্ত বিস্তৃত। পাশাপাশি ৪৩ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পশ্চিম নীল রুটের নির্মাণকাজ চলছে, যা ৬ অক্টোবর সিটি থেকে গিজা পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করবে। দুইটি রুট চালু হলে নেটওয়ার্কটির মোট দৈর্ঘ্য ১০০ কিলোমিটারের বেশি হবে, যা বিশ্বের দীর্ঘতম মনোরেল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।
২০১৯ সালে প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ফরাসি প্রতিষ্ঠান আলস্টমের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম। ইংল্যান্ডের ডার্বিতে তৈরি ২৭২টি কোচ নিয়ে গঠিত ৬৮টি ট্রেন ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলবে এবং প্রতি দিকে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করতে পারবে।
আলস্টম জানিয়েছে, মনোরেলটি পরিবেশবান্ধব ও কম শব্দদূষণকারী। ব্রেকিংয়ের সময় উৎপন্ন শক্তির ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব, যা জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমায়। মিশর সরকার আশা করছে, নতুন প্রশাসনিক রাজধানী ভবিষ্যতে ৬৫ লাখ মানুষের আবাসস্থল হবে এবং প্রায় ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।