বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকার সংকটের কারণে কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য প্রাণীর কামড়ে আহতরা ঢাকায় আসতে বা বেশি দামে টিকা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে রোগী ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয়ভাবে টিকা না পেয়ে সাত বছরের মিনহাজকে গাজীপুর থেকে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আনা হয়; রোববার সেখানে তাকে তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রাণীর আক্রমণের পর বছরে গড়ে প্রায় ৫০ জন মারা যান এবং আক্রান্ত হন ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষ। ২০২৩ সালে জলাতঙ্কে ৪২ জন, ২০২৪ সালে ৫৮ জন, ২০২৫ সালে ৫৯ জন এবং চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, গভীর ক্ষত ও রক্তপাত হলে অ্যান্টির্যাবিস ভ্যাকসিনের সঙ্গে র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিনও প্রয়োজন, তবে বহু জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে এর সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রাণীর কামড়ের চিকিৎসায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,২০০ রোগী আসেন। চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে ১ লাখ ৭ হাজার ৫৫৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। সিডিসির সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন ও ৩ লাখ ডোজ ইমিউনোগ্লোবিউলিন সরবরাহের কার্যক্রম রয়েছে এবং বর্তমানে কোনো টিকার সংকট নেই।