বাংলাদেশের সর্বজনীন পেনশন স্কিম বর্তমানে আস্থার সংকটে ভুগছে। নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার হার কমে গেছে এবং পুরোনো সদস্যদের বড় অংশ নিয়মিত চাঁদা দিচ্ছেন না। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বৈঠকে আস্থা পুনরুদ্ধার ও স্কিমে গতি ফেরানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে চার কোটি পরিবারের অন্তত একজনকে স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। শরিয়াহভিত্তিক স্কিম ও নমিনিদের আজীবন পেনশন সুবিধার প্রস্তাবও ইতিবাচকভাবে বিবেচিত হয়।
২০২৩ সালের আগস্টে চালু হওয়া এই স্কিমে প্রবাস, সুরক্ষা, প্রগতি ও সমতা নামে চারটি উপ-স্কিম রয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের দুর্নীতি ও ‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিলের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৫৪ জন, যার মধ্যে ৪০–৪৫ শতাংশ নিয়মিত চাঁদা দিচ্ছেন না।
নতুন নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, স্কিমগুলোকে আকর্ষণীয় করতে সংস্কার, প্রচারণা ও শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের ফলে অংশগ্রহণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।