ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলের রাশিয়ার দখলে থাকা ওলেশকি শহরে তীব্র মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ প্রায় বন্ধ, মাইন ও নিয়মিত ড্রোন হামলার কারণে বাইরে যাওয়ার পথ বিপজ্জনক এবং বেসামরিকদের সরিয়ে নেওয়াও কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শহরে প্রায় ২ হাজার বেসামরিক মানুষ, যার মধ্যে প্রায় ৪০ শিশু, আটকে আছেন। বাসিন্দারা শেষ মজুত খাবার, বাড়ির আশপাশের সবজি ও ভোজ্য আগাছা খেয়ে টিকে থাকার কথা জানিয়েছেন।
ডিনিপার নদীর তীরে অবস্থিত ওলেশকি ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই রুশ বাহিনী দখল করে। ওই বছরের নভেম্বরে ইউক্রেন খেরসন শহর পুনর্দখল করার পর রুশ সেনারা নদীর ওপারে ওলেশকিতে অবস্থান শক্তিশালী করে, ফলে এটি সম্মুখসারির এলাকায় পরিণত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে শহরে বিদ্যুৎ, প্রবাহমান পানি, গ্যাস ও স্বাস্থ্যসেবা নেই।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের বের হতে ও খাদ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির কাছে নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা চেয়েছেন। ক্রেমলিন গুরুতর মানবিক বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করলেও দায় ইউক্রেনের ওপর চাপিয়েছে। স্থলপথ কার্যত অচল হওয়ায় ইউক্রেন ড্রোনে খাদ্য ও ওষুধ পাঠানোর চেষ্টা করছে।