ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাট রাজ্য সরকার পরিচয় গোপন করে প্রতারণামূলক বিয়ে বা কথিত ‘লাভ জিহাদ’ রোধে বিবাহ নিবন্ধন আইনে সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। শুক্রবার রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি বিধানসভায় এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, গুজরাটের মেয়েদের প্রতারণা থেকে রক্ষা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রস্তাবিত আইনে বর ও কনেকে বিয়ে নিবন্ধনের সময় পিতা-মাতার সম্মতির প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে এবং তাদের পূর্ণ পরিচয়, ফোন নম্বর ও ঠিকানা উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সংশোধনী খসড়া অনুযায়ী, কোনো বিয়ে নিবন্ধনের আবেদন জমা পড়লে সহকারী রেজিস্ট্রারকে ১০ দিনের মধ্যে উভয় পক্ষের পিতা-মাতাকে অবহিত করতে হবে। এরপর আবেদন সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে এক মাসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। সাংঘভি জানান, নতুন আইনের বিস্তারিত তথ্য সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যা বর্তমানে প্রস্তুত হচ্ছে। তিনি বলেন, সনাতন বিবাহপ্রথা রক্ষা ও নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
‘গুজরাট ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন আইন ২০০৬’-এর আওতায় এই সংশোধনী আনা হচ্ছে। সাংঘভি আরও জানান, পরিচয় গোপন করে বিয়ে ও ভুয়া বিবাহ সনদের অভিযোগ রয়েছে এবং এমনকি মুসলিম জনবসতি নেই এমন এলাকাতেও নিকাহ সনদ ইস্যুর ঘটনা ঘটেছে। আইন প্রণয়নের আগে ৩০ দিন ধরে জনগণের মতামত নেওয়া হয়েছে।