১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ভারতের ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে ঐতিহাসিক ফারাক্কা মিছিলের নেতৃত্ব দেন। ৯৪ বছর বয়সে ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও তিনি রাজশাহী থেকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট পর্যন্ত ৬৪ মাইল দীর্ঘ মিছিল পরিচালনা করেন। লাখো মানুষ এতে অংশ নেয় এবং গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ফারাক্কা মিছিল ছিল মওলানা ভাসানীর আজীবন ঔপনিবেশিকতা, সাম্রাজ্যবাদ ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। তিনি আসামে কৃষক আন্দোলন, ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৫০-এর দশকে মার্কিন-পাকিস্তান সামরিক চুক্তির বিরোধিতার মাধ্যমে মজলুম মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। লেখকের মতে, এই আদর্শই তাকে ফারাক্কা মিছিলের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম করে।
লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভাসানী ফারাক্কা বাঁধকে বাংলাদেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য হুমকি এবং ভারতের ভূরাজনৈতিক আধিপত্যের হাতিয়ার হিসেবে দেখেছিলেন। এই মিছিল বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে।