বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ২০০৪ সালের ন্যাশনাল এনার্জি পলিসিতে নির্ধারিত ৬০ দিনের জ্বালানি মজুতের নিয়ম মানছে না। ২০২০ সাল থেকে এ সক্ষমতা অর্জন করলেও বিপিসি এখনো ২৫ থেকে ৩০ দিনের মজুত নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মার্চের শুরুতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে দেশে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন রিফাইনারি, তিনটি বিপণন প্রতিষ্ঠান ও সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্পসহ মোট মজুত ক্ষমতা ১৫ লাখ ৮১ হাজার মেট্রিক টন, যা ৯০ দিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। কিন্তু এই সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা হচ্ছে না। সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্যানিক বায়িং বেড়েছে। বিপিসি প্রতিদিন জাহাজ আগমনের খবর প্রচার করে আতঙ্ক কমানোর চেষ্টা করছে, যদিও জাহাজগুলো পূর্ণ ধারণক্ষমতা ব্যবহার করছে না।
জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের অভাবেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি তেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে, তবে নতুন সরবরাহকারীদের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।