নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, কেনিয়া ও ইথিওপিয়ার মধ্য দিয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার বিস্তৃত তুরকানা রিফট অঞ্চলে ভূত্বক এতটাই পাতলা ও দুর্বল হয়েছে যে ভবিষ্যতে আফ্রিকার একটি অংশ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এ বিচ্ছিন্নতার ফলে সেখানে নতুন মহাসাগরীয় অববাহিকা গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটি নিকট ভবিষ্যতের ঘটনা নয়; সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় আরও কয়েক মিলিয়ন বছর লাগতে পারে।
উচ্চ-রেজল্যুশনের ভূকম্পন ও ভূতাত্ত্বিক তথ্য অনুযায়ী, রিফটের কেন্দ্রীয় অক্ষের নিচে স্ফটিকীয় ভূত্বকের পুরুত্ব প্রায় ১৩ কিলোমিটার, যেখানে বাইরের তুলনামূলক অক্ষত এলাকায় তা ৩৫ কিলোমিটারের বেশি। গবেষকেরা এই সরু হয়ে আসার পর্যায়কে ‘নেকিং’ বলেছেন। পূর্ব আফ্রিকায় নুবিয়ান ও সোমালি প্লেট ধীরে ধীরে আলাদা হচ্ছে, আর উত্তরের আফার অঞ্চলে রিফটিং মহাসাগরীয় ভূত্বক তৈরির পর্যায়ের দিকে আরও এগিয়েছে।
তুরকানা অঞ্চলে নেকিং শুরু হয়েছিল আনুমানিক ৪০ লাখ বছর আগে, আর রিফট-সম্পর্কিত বিচ্ছিন্নতা শুরু প্রায় ৪৫ মিলিয়ন বছর আগে। প্লেটগুলো বছরে আনুমানিক ৪.৭ মিলিমিটার হারে দূরে সরে যাচ্ছে। রিফটিংয়ের কারণে তৈরি নিম্নভূমিতে পলি জমে এ অঞ্চলের সমৃদ্ধ জীবাশ্মভাণ্ডার সংরক্ষণে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।