আমার দেশ-এ ২৯ জুলাই ২০২৬ প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে মো. রাহেল ইসলাম বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কেবল সরকার পরিবর্তন বা নির্বাচনকেন্দ্রিক ছিল না। তাঁর মতে, রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাজনীতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে মানুষের গভীর প্রত্যাশা থেকে এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান গড়ে ওঠে। আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা ছিল ন্যায়ভিত্তিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
লেখক যুক্তি দেন, বিচারহীনতা, দুর্নীতি, প্রশাসনের দলীয়করণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও জবাবদিহির সংকট বহাল থাকলে শুধু ভোটে সরকার বদলকে প্রকৃত গণতন্ত্র বলা যায় না। প্রচলিত নির্বাচনী ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থী জয়ী হন, যদিও তিনি মোট ভোটের অর্ধেকের কম পেতে পারেন। ফলে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা জনগণের পূর্ণ রাজনৈতিক সম্মতির সমান নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিবন্ধে স্বাধীন বিচার বিভাগ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রশাসন, নাগরিক অধিকার রক্ষাকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থার আহ্বান জানানো হয়েছে। কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক সুশাসন, জ্বালানি স্বচ্ছতা, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তাকেও গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। লেখকের মতে, নির্বাচনকে গণতন্ত্রের সূচনা হিসেবে দেখতে হবে; পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো ফিরে এলে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।