২০২৬ সালের ১৬ মে ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় আবদুল কাদের জিলানীর লেখা নিবন্ধে বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশে আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের দর্শন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। লেখক উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার যে সম্মিলিত জাগরণ ঘটেছিল, সেখানে ইকবালের ‘খুদী’ বা আত্মসচেতনতার দর্শন পরোক্ষভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। রাজপথে ইকবালের কবিতার স্লোগান উচ্চারিত হয়েছিল, যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠে।
নিবন্ধে ইকবালের চিন্তা ও দর্শনের উৎস হিসেবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দার্শনিকদের প্রভাবের কথা বলা হয়েছে। লেখক বলেন, ইকবালের ইসলামি মানবতাবাদ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তা রবীন্দ্রনাথের ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদের বিপরীতে দাঁড়ায়। ১৯৭১-পরবর্তী জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে ইকবাল দর্শন উপেক্ষিত হলেও জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে তা নতুনভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে।
লেখকের মতে, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে ইকবাল পাঠের এই পুনরুত্থান ইসলামি মূল্যবোধ ও কর্তাসত্তার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং এটি এক সাংস্কৃতিক মুক্তির আন্দোলনের প্রতিফলন।