যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যখন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন বৈশ্বিক তেলের দামের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে চীনের ওপর। আলোচনার বাইরে থেকেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল ভোক্তা দেশ হিসেবে চীন সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার প্রভাব মোকাবিলায় আমদানি কমানো, মজুত তেল ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারে স্থিতি বজায় রেখেছে।
সরবরাহ ঘাটতি একশ কোটি ব্যারেল ছাড়ালেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহের ১৪ শতাংশ প্রভাবিত হলেও দাম অতীতের মতো বাড়েনি, কারণ চীন বাজারে ভারসাম্য রক্ষা করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, মজুত তেলের ওপর নির্ভরতা দীর্ঘস্থায়ী নয় এবং দাম কমে এলে চীন আবারও বড় পরিসরে তেল মজুত শুরু করতে পারে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করেছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদন স্বাভাবিক হলে আগামী বছর দৈনিক ৪৭ লাখ ব্যারেল সরবরাহ চাহিদাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, ফলে বাজার ভারসাম্য রক্ষায় চীনের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।