দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল মঙ্গলবার সুন্দরবন খুলছে। মাছ ও কাঁকড়া আহরণের আশায় উপকূলের হাজার হাজার জেলে-বাওয়ালি আবার বনের সরু নদীতে নৌকা নামাবেন। পর্যটকদের জন্যও খুলে দেওয়া হবে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের বনজসম্পদ আহরণ এবং পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ ছিল।
এই বন্ধে সুন্দরবননির্ভর পরিবারগুলো বড় সংকটে পড়ে, বিশেষ করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। বিকল্প কাজের অভাবে অনেকে সংসার চালাতে মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে দাদন নিয়েছেন, কেউ এনজিও ঋণ নিয়েছেন। বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ ও গাবুরা এলাকায় জেলে-বাওয়ালিরা নৌকা মেরামত, আলকাতরা দেওয়া, জাল সেলাই এবং বন বিভাগের অনুমতিপত্র সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জেলেরা বলছেন, বন খোলায় আবার আয় করে ঋণ শোধের সুযোগ তৈরি হবে, তবে অনিশ্চিত আহরণ, কিস্তির চাপ এবং বনদস্যুদের হামলা ও চাঁদাবাজির ভয় রয়ে গেছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও ট্রলার পরিষ্কার ও মেরামত করছেন। ট্রলার মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার সময়ে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার ট্রলার শ্রমিক কার্যত বেকার ছিলেন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে জেলে-বাওয়ালিদের পাশাপাশি পর্যটকরাও সুন্দরবনে যেতে পারবেন।