চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান ধর্মঘট এখন জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে, যার ফলে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে রমজানকে ঘিরে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আট ঘণ্টার কর্মবিরতি এখন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বন্দরে ১২০টিরও বেশি জাহাজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৩৫টি জাহাজে রয়েছে খেজুর, ডাল, ছোলা, চিনি ও ভোজ্যতেলসহ রমজানের গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। আমদানিকারকদের অতিরিক্ত স্টোরেজ চার্জ গুনতে হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত বাজারদরে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ধর্মঘটের কারণে পণ্য খালাস অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্যবসায়ী ও শিপিং এজেন্টরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের বিলম্বে আমদানিকারকদের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে, যা ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে, শ্রমিকদের নিয়মিত বুকিংয়ের নির্দেশ দিয়েছে এবং রাজস্ব ক্ষতি নিরূপণে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
শ্রমিক নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, বিদেশি ইজারা বাতিলের স্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে, অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।