২০২৬ সালের ২৩ জুলাই সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা সরকারকে চার দফা জরুরি দাবি মেনে নিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়। ঢাকার রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ক সারজিস আলম এই ঘোষণা দেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল ইন্টারনেট সংযোগ সচল করা, কারফিউ প্রত্যাহার, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরিয়ে আবাসিক হল খুলে দেওয়া এবং আন্দোলনের নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ছাত্রনেতারা জানান, এসব দাবি পূরণ না হলে তারা আর কোনো আলোচনায় অংশ নেবেন না।
সেই রাতেই পুলিশ ও আওয়ামী কর্মীরা শিক্ষার্থীদের মেস ও ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বহুজনকে গ্রেপ্তার করে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১,১০০ জনের বেশি এবং এক সপ্তাহে ৩,০০০ জনেরও বেশি গ্রেপ্তার হয়। আদালতের নির্দেশে সরকার ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটা পদ্ধতি কার্যকর করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। সম্পাদক ও প্রকাশকরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। ছয় দিন পর ঢাকায় ও চট্টগ্রামে সীমিত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু হয়।
দমন-পীড়ন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে এবং শিক্ষার্থী ও পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।