মঙ্গলবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। অপরিশোধিত তেলের দীর্ঘস্থায়ী উচ্চমূল্য, বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং বাজারে দুর্বল মনোভাবকে এই পতনের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিনের শুরুতে রুপি ৯৫.৫০ স্তরে লেনদেন শুরু করে, যা আগের রেকর্ড ৯৫.৪৩২৫–কে ছাড়িয়ে যায় এবং পরে আরও দুর্বল হয়ে ৯৫.৬২৫০ পর্যন্ত নেমে যায়। ইরান–ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রুপির অবমূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫.২ শতাংশে। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করে পতন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে, তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক তেলের দাম ভারতের আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় ফিলিপাইনের পেসো ও ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহসহ এশিয়ার অন্যান্য মুদ্রাও দুর্বল হয়েছে। চলতি বছরে রুপি প্রায় ৬.৫ শতাংশ কমেছে, যা এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকবে, ফলে ভারতের চলতি হিসাব ঘাটতি ও বিনিয়োগ প্রবাহে চাপ বাড়বে।
এএনজেড ব্যাংক রুপির ডিসেম্বর পূর্বাভাস ৯৩ থেকে বাড়িয়ে ৯৭.৫ করেছে, আর বিএমআই সতর্ক করেছে, পরিস্থিতি খারাপ হলে রুপি ১০০–এর কাছাকাছি নেমে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকদের জ্বালানি ব্যবহার, ভ্রমণ ও আমদানি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।