ইরানের তথ্য পরিষদের মহাপরিচালকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ইরান–মার্কিন সংঘাত ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়নি। ইরান ও ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র একটি সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত অভিযানে প্রবেশ করে, যার লক্ষ্য ছিল ইরানকে দ্রুত পিছু হটানো। কিন্তু যুদ্ধটি ৪০ দিনের ক্লান্তিকর সংঘর্ষে পরিণত হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বড় ক্ষতি ডেকে আনে।
প্রতিবেদনটি জানায়, ওয়াশিংটন ইরানের কৌশলগত আচরণ ভুলভাবে মূল্যায়ন করে এবং এর ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করে। ইরান ইসরায়েলের পরিবর্তে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এবং হরমুজ প্রণালীর ভূমিকা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক হিসাব ব্যাহত করে। যুদ্ধের সময় ইরানি সমাজ ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যা ওয়াশিংটনের প্রত্যাশার বিপরীত ছিল। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত ভূমিকা যুদ্ধক্ষেত্রকে আরও জটিল করে তোলে, আর ন্যাটোর সীমিত সহায়তা মার্কিন জোটের দুর্বলতা প্রকাশ করে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ বিরোধ, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ বাড়ে। শেষ পর্যন্ত ৪০ দিন পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্তে আলোচনায় রাজি হয়, যা একটি কৌশলগত অচলাবস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।