চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বতে, নেপাল ও ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত কৈলাস পর্বত ও মানস সরোবর হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং তিব্বতের প্রাচীন বন ধর্মের অনুসারীদের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। তীব্র ঠান্ডা, দ্রুত বদলে যাওয়া আবহাওয়া, দুর্গম পাহাড়ি পথ ও অক্সিজেনের স্বল্পতার কারণে সেখানে পৌঁছানো কঠিন। সম্প্রতি তীর্থযাত্রার সময় আকস্মিক বন্যায় বিদেশি নাগরিকসহ কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার পর অঞ্চলটি আবার আলোচনায় এসেছে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কৈলাসের উচ্চতা প্রায় ৬ হাজার ৬৩৮ মিটার এবং এর দক্ষিণে মানস সরোবরের উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৬০০ মিটার। ইউনেস্কো কৈলাস, মানস সরোবর ও পাশের রাক্ষসতালকে বৃহত্তর পবিত্র পর্বত ও হ্রদ অঞ্চলের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, সিন্ধু, শতদ্রু, ব্রহ্মপুত্র ও কর্ণালী—এশিয়ার চারটি বড় নদীর উৎস এ অঞ্চলেই। এখানে ধর্মীয় উপাসনার ইতিহাস প্রায় তিন হাজার বছরের পুরোনো।
তীর্থযাত্রীরা কৈলাসের চূড়ায় আরোহণ করেন না; প্রায় ৫২ কিলোমিটার পথ ঘুরে পর্বত প্রদক্ষিণ করেন, যা সাধারণত তিন দিনে শেষ হয়। হিন্দু ও তিব্বতি বৌদ্ধরা সাধারণত ঘড়ির কাঁটার দিকে, আর বন ও জৈন অনুসারীরা বিপরীত দিকে প্রদক্ষিণ করেন। বাংলাদেশিসহ বিদেশিরা সাধারণত নেপাল হয়ে তিব্বতে যান এবং চীনা ভিসা, তিব্বত ভ্রমণের অনুমতি ও অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরের ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়।