উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে যমুনার পানি বাড়ায় সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ১১ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, চরগিরিস এলাকায় ভাঙন সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। সেখানে চরগিরিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘরবাড়ি, গাছপালা ও অন্যান্য বহু স্থাপনা হুমকির মুখে রয়েছে। যমুনাবেষ্টিত জেলার কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হচ্ছে।
চরগিরিসের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কয়েকদিন ভাঙন কিছুটা কম থাকলেও গত দুইদিনে তা তীব্র হয়েছে। রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হচ্ছে এবং ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার সময় মিলছে না বলে তিনি জানান। তাঁর অভিযোগ, ভাঙন ঠেকাতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সিরাজগঞ্জের গুমানী, গোহালা, বড় পাঙ্গাসী, ইছামতি, ফুলজোর, বাঙালি, বড়াল ও হুরাসাগর নদীর পানিও বাড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, যমুনার পানি টানা সাতদিন ধরে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে পানি ছয় সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচে ছিল; মেঘাই ঘাটে তিন সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হয়। নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, পানি আরও তিন থেকে চারদিন বাড়তে পারে, তবে বন্যা বা বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।