একটি মতামতধর্মী লেখায় বলা হয়েছে, সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। লেখাটির মতে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিন দফায় প্রকারভেদে জ্বালানির দাম ৩৫ থেকে ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাবে আগস্টে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ; জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে পণ্য ও সেবার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে।
লেখক বাংলাদেশ অর্থনীতিকে মধ্যম মাত্রার স্ট্যাগফ্লেশনে আক্রান্ত বলে বর্ণনা করেছেন, যেখানে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির সঙ্গে নিম্ন প্রবৃদ্ধি রয়েছে। তাঁর মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং বিনিয়োগের দুর্বলতার কারণে প্রবৃদ্ধি কম থাকলে পরিস্থিতি তীব্র হতে পারে। সরকার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের বার্ষিক ১০ হাজার কোটি টাকার লোকসান ঠেকানোর যুক্তিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখাটিতে বিপিসির কাঠামোগত দুর্বলতা, অদক্ষতা ও অনিয়মের অভিযোগ মোকাবিলার দাবি জানানো হয়েছে। বিপিসির নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সংস্থাটি তেল বিক্রি করে ৫৫ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। লেখক জ্বালানি তেলের দাম পুনঃসমন্বয় এবং তুলনামূলক জনবান্ধব বিকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।