বাংলাদেশে নিয়মিত ও জরুরি টিকাদান কর্মসূচির পরও হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি; প্রায় ছয় মাস ধরে চলা প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও শিশুমৃত্যু বাড়ছে। ১৯ আগস্টের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, হামে ও হাম-উপসর্গে ৯১৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৯ জন এবং হাম-উপসর্গে ৮১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে; মঙ্গলবার তিন শিশুর মৃত্যু এবং এক হাজারের বেশি আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঢাকা বিভাগে, ৪২৩ জনের; এখানেই হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত শিশু ৭৪ হাজার ৫৯৫ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মৃতদের ৯০ শতাংশ কোনো টিকা নেয়নি। আক্রান্তদের ৭২ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম এবং মৃত্যুর ২০ শতাংশ ছয় মাসের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা টিকার কম কভারেজ, ঝুঁকির তথ্য বিশ্লেষণে বিলম্ব, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইসোলেশনের দুর্বলতা, পুষ্টির ঘাটতি এবং ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটিকে দায়ী করেছেন। ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ শিশুকে এমআর টিকা দেওয়া হলেও প্রায় ৪১ লাখ শিশু বাদ পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা নজরদারি, হাসপাতালের পৃথক ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ এবং অন্তত ৯৫ শতাংশ টিকাদান নিশ্চিতের পরামর্শ দিয়েছেন।