একটি মতামতধর্মী প্রবন্ধে বলা হয়েছে, ‘অখণ্ড ভারত’-এর রাজনৈতিক ধারণা দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান রাষ্ট্র ও জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং সম্মতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ইকারাসের পৌরাণিক কাহিনিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করে লেখক যুক্তি দিয়েছেন, রাজনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করা উচ্চাকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে তিনি ভারতপ্রীতি বা ভারতবিদ্বেষের সরল দ্বন্দ্ব নয়, বরং সার্বভৌমত্ব, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও সমমর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেছেন।
প্রবন্ধে বলিউড, সাহিত্য, উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, প্রবাসী সম্প্রদায় এবং ইংরেজিভাষী বুদ্ধিবৃত্তিক সক্রিয়তার মাধ্যমে ভারতের সফট পাওয়ারের কথা স্বীকার করা হয়েছে। তবে প্রভাব যখন নিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষায় পরিণত হয়, তখন সাংস্কৃতিক আকর্ষণ আধিপত্যের হাতিয়ার হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। আন্তোনিও গ্রামসি, অ্যাডওয়ার্ড সাঈদ ও বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসনের ধারণার আলোকে শিক্ষা, সংবাদমাধ্যম, ভাষা, মানচিত্র, ইতিহাস ও পরিচয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা কাজ করার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।
লেখক বাংলাদেশের জন্য বিচক্ষণ কূটনীতি, জাতীয় স্বার্থ এবং সমমর্যাদাভিত্তিক সম্পর্কের পক্ষে মত দিয়েছেন। বন্ধুত্ব, বাণিজ্য, সীমান্ত ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রেখেও জাতীয় সিদ্ধান্ত ঢাকার হাতেই থাকা উচিত বলে প্রবন্ধে বলা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎকে সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক মর্যাদা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।