বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের অভিযান ও একটি অনুসন্ধানে দেশের অন্তত আটটি হাবের তথ্য উঠে এসেছে। এগুলো হলো মেহেরপুরের মুজিবনগর, নড়াইলের কালিয়া, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, কুড়িগ্রামের রৌমারী-ভূরুঙ্গামারী, নরসিংদীর মাধবদী, নাটোরের লালপুর, গাজীপুরের টঙ্গী ও কক্সবাজার সদর। স্থানীয় এজেন্ট ও সুপার এজেন্টরা কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ, আর মূল নিয়ন্ত্রকেরা চীন, রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, হাবের প্রকৃত সংখ্যা ও নিয়ন্ত্রকদের নিয়ে কোনো পূর্ণাঙ্গ জরিপ নেই। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা সাধারণত এজেন্ট বা ডিস্ট্রিবিউটর হওয়ায় মূল হোতাদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে। তদন্তে টেলিগ্রামের ব্যবহার এবং চীনা ও রুশ ভাষায় বার্তা আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে। সিআইডি বলেছে, জুয়ার সাইট ও অ্যাপে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
জানুয়ারির জিইডি সমীক্ষায় পাঁচ মিলিয়নের বেশি নাগরিক অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ে আসক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে; তাদের ৩৮ শতাংশ তরুণ ও যুবক। সিআইডি ৭৬৩টি সাইট ও অ্যাপ অপসারণের অনুরোধ করেছে। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ ৮৯টি সাইট অপসারণের অনুরোধ করে এবং বিটিআরসি ৫৭টি সাইট সরিয়েছে। কর্মকর্তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অস্বাভাবিক লেনদেনে নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।