প্রায় ৮০ বছর বয়সী জামাল উদ্দীন প্রতি মাসে লোহাগাড়া থেকে চট্টগ্রাম আদালতে আসেন নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের হত্যার বিচার দেখতে। বয়সজনিত দুর্বলতা সত্ত্বেও তিনি প্রতিটি শুনানিতে উপস্থিত থাকেন, কিন্তু মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরতে হয়। চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে থাকলেও আসামিপক্ষের বারবার সময় আবেদন বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে।
গত বুধবারও আসামিপক্ষের আইনজীবী অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময় আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে জামাল উদ্দীনের সাক্ষ্য সমাপ্ত ঘোষণা করে এবং পরবর্তী সাক্ষীর জন্য সমন জারি করে। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ জুন। চার্জ গঠনের পর থেকে আসামিপক্ষ ছয়বার সময় আবেদন করেছে। বাদীপক্ষ জানিয়েছে, এসব বিলম্ব বৃদ্ধ জামাল উদ্দীনের জন্য মানসিক কষ্টের কারণ হচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মী জামাল হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম আদালতে বিপুল সংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকায় ঘনঘন সময় আবেদন ও আইনি জটিলতায় বিচারপ্রার্থীরা বছরের পর বছর অপেক্ষা করছেন। ২০২৪ সালে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের হাতে আলিফ হত্যাকাণ্ড বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।