বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন পিকআপচালক শাহিন। তিনি টাইলস রোডের ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন করতেন এবং যাত্রাবাড়ীতে বাবা-মা ও পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দিন আন্দোলনকারীরা প্রধান সড়ক ও যাত্রাবাড়ী থানাসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিলে গুলি চালানো হয়।
শাহিনের বাবা আবদুল মাজেদ জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, দুই বছরেও বিচার না হওয়ায় পরিবার হতাশ। মা মাজেদা খাতুন ছেলেকে পরিবারের আশা-ভরসা হিসেবে উল্লেখ করে হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানান। পরিবারটি জানায়, স্থানীয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা তাদের খোঁজ নেয় না।
শাহিনের আয়ের ওপর আট সদস্যের পরিবার নির্ভরশীল ছিল বলে স্বজনেরা জানান। তাঁর বাবা-মা দক্ষিণ জয়নগরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। স্ত্রী স্বপ্না দুই সন্তান নিয়ে যাত্রাবাড়ীতে ভাড়া বাসায় থাকেন; সরকারি ১০ লাখ টাকা দিয়ে তিনি ১৬ শতাংশ জমি ও একটি অটোরিকশা কিনেছেন। জুলাই হত্যাকাণ্ড নিয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় দুটি মামলা হলেও কোনো অগ্রগতি নেই বলে পরিবার জানিয়েছে।