ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথটি ছাড়তে অনিচ্ছুক। সিএনবিসি-কে বিশ্লেষকরা জানান, সীমিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করেই তেহরান প্রণালিটি কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। সাম্প্রতিক পারস্পরিক হামলা ইঙ্গিত দেয়, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা এখনো দূরের বিষয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চুক্তি হলেও ইরান তার নতুন জ্বালানি অস্ত্রের ক্ষমতা হারাবে না।
তেহরান ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ (পিজিএসএ) গঠন করে জাহাজ যাচাই ও ট্রানজিট ফি আদায়ের ব্যবস্থা নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং কোম্পানিগুলোকে ইরানের সঙ্গে লেনদেন থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করেছে। তবে কিছু তেল ব্যবসায়ী গোপনে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করেছে বলে জানা গেছে। উড ম্যাকেঞ্জি ও রাইস্ট্যাডের বিশ্লেষণে বলা হয়, প্রণালি বন্ধ থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, আর আংশিক খোলায় ১–২০ ডলার পর্যন্ত বাড়তি ঝুঁকি প্রিমিয়াম যোগ হবে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার শুরু করেছে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এসব অবকাঠামো ব্যয়বহুল, জটিল এবং ইরানি হামলার ঝুঁকি থেকে মুক্ত নয়।