আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জ থেকে প্রায় ১৯ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগের অভিযোগ তদন্ত করছে সরকার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার কনস্টেবল, এসআই ও এএসআই, ৩ হাজার ৭০০ ইন্সপেক্টর এবং ৩০০ সহকারী ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রয়েছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অভিযোগ ওঠে যে, জেলা কোটায় সুবিধা পেতে অনেকে জমি কিনে বা স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে নিয়োগ পেয়েছেন।
পুলিশ সূত্রের অভিযোগ, নিয়োগে দলীয় পরিচয়, জেলা বিবেচনা, প্রভাবশালী নেতাদের ডিও লেটার এবং আর্থিক লেনদেনের প্রভাব ছিল। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরে কারসাজি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং রাজনৈতিক প্রভাবের অপব্যবহার হয়েছে কি না দেখা হচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্টতাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিটি জেলায় দুটি করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ডিআইজিদের প্রধান সমন্বয়ক করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা বিশেষ শাখার সদস্যরা কমিটিগুলোকে সহায়তা করছেন। কমিটিগুলো নথি সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন রেঞ্জ অফিস, পুলিশ সদর দপ্তর হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাবে; এরপর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, অবৈধ নিয়োগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।