মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশের শিল্প খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় চাপ তৈরি হয়েছে। টানা আট মাস ধরে দেশের রপ্তানি আয় কমছে, যা ইতিহাসে নজিরবিহীন। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশের বেশি কমে ৩৪৮ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যেখানে ২০২৫ সালের মার্চে আয় ছিল ৪২৫ কোটি ডলার।
ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, উৎপাদন কমে যাওয়া, ব্যয় বৃদ্ধি এবং সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা কমছে। তৈরি পোশাক খাত, যা মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি, চলতি অর্থবছরে ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালে ভিয়েতনাম ৮২ কোটি ডলার বেশি রপ্তানি করে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলেছে।
গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের বহু কারখানায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমেছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত সমাধান না হলে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।