মাদারীপুরের শিবচরে দীর্ঘদিন খনন না হওয়া, পলি জমে ভরাট এবং তীর দখলের কারণে একসময়ের খরস্রোতা কয়েকটি নদ-নদী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। শিরুয়াইল-নীলখীর মরা আড়িয়াল খাঁ, পৌর এলাকার ময়নাকাটা এবং বাঁশকান্দির বিলপদ্মাসহ বিভিন্ন নদীর প্রবাহপথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। কোথাও বিস্তীর্ণ চর জেগেছে, কোথাও নদীর বুকে চাষাবাদ হচ্ছে, আবার কোথাও পুরোনো গতিপথ হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মাদারীপুরের পাঁচ উপজেলায় কাগজে-কলমে ১৭টি নদ-নদী রয়েছে, যার বিস্তৃতি প্রায় ২৫০ কিলোমিটার। তবে পদ্মা, পালরদী ও ময়নাকাটাসহ দৃশ্যমান রয়েছে মাত্র ১০টি নদ-নদী। শিবচরের শিরুয়াইল, নীলখী, বাঁশকান্দি, পৌর এলাকা, পাঁচ্চর ও দ্বিতীয়াখণ্ডে সংকট স্পষ্ট। শিরুয়াইলের বাসিন্দা রানা হামিদ বলেন, বাজারসংলগ্ন নদীটি এখন বর্ষায় পানি ধরে রাখে এবং শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে যায়; এর মধ্যে ফসলও ফলানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, নদীর সীমানা নির্ধারণ করে দখল ও ভরাট বন্ধ করতে হবে এবং পরিকল্পিত খনন চালাতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, নদী রক্ষায় পরিকল্পনা নেওয়ার উদ্যোগ চলছে, তবে বিআরএস নকশা ও পর্চা অনুযায়ী সঠিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সাদত হাসান কবির জানান, দখল ও নাব্য সংকটে ময়নাকাটার বহু স্থানে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ার পথে।