একটি মন্তব্যধর্মী লেখায় সতর্ক করা হয়েছে, ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন অ্যাপকে নির্বিচারে লোকেশন অনুমতি দিলে স্মার্টফোন অদৃশ্য ও সার্বক্ষণিক নজরদারির যন্ত্রে পরিণত হতে পারে। এতে মানুষ কোথায় নাশতা করেন, কোন পথে চলাচল করেন, কোথায় কাজ বা চিকিৎসা নেন এবং কখন বাড়ি ফেরেন—এসব তথ্য থেকে দৈনন্দিন জীবনের বিস্তারিত ডিজিটাল মানচিত্র তৈরি হতে পারে। লেখাটির মতে, রাজনৈতিক সভা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের তথ্য থেকেও ব্যক্তির মতাদর্শ ও জীবনধারা সম্পর্কে ধারণা করা সম্ভব।
লেখায় বলা হয়েছে, আবহাওয়া, টর্চলাইট বা গেমের মতো সাধারণ অ্যাপেও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট কিট থাকতে পারে, যা পটভূমিতে জিপিএস অবস্থান সংগ্রহ করে। অনলাইনে বিজ্ঞাপন বাছাইয়ের রিয়েল-টাইম বিডিং প্রক্রিয়ায় ফোনের পরিচিতি ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বহু বিজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছাতে পারে। ডেটা ব্রোকাররা বিভিন্ন ডিভাইসের লোকেশন তথ্য কিনে ডেটাবেস তৈরি করে করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা এজেন্সির কাছে বিক্রি করে বলে লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম মুছে ফেললেও কয়েকটি লোকেশন পয়েন্ট ব্যবহার করে মানুষকে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে, কারণ অনেকের চলাচলের রুট ও কর্মস্থল নিয়মিত থাকে বলে লেখাটি জানায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের ডেটা ব্রোকারদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিধিনিষেধের কথাও বলা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের শুধু অ্যাপ ব্যবহারের সময় লোকেশন অনুমতি দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় ফ্রি অ্যাপ মুছে ফেলা এবং বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।