মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে বৈশ্বিক সমুদ্র বাণিজ্য আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে ১ এপ্রিল থেকে আবারও জাহাজভাড়া বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মেইন লাইন অপারেটররা, যা বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি খরচে বড় চাপ তৈরি করতে পারে। ইউরোপগামী কনটেইনার ভাড়া ইতোমধ্যে ১ হাজার ৬০০–১ হাজার ৭০০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্য রুটে সংযোগ প্রায় ভেঙে পড়েছে, যেখানে সীমিতসংখ্যক জাহাজ কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে।
শিপিং কোম্পানিগুলো জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে ঊর্ধ্বগতি ও যুদ্ধ ঝুঁকিকে কারণ দেখিয়ে ভাড়া সমন্বয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মার্চের মতো এপ্রিলেও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়বে রপ্তানি খাতে, বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পে, কারণ আগের অর্ডারগুলো পুরোনো ভাড়া কাঠামোর ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল।
ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা জানিয়েছেন, বাল্ক পণ্যবাহী জাহাজের ভাড়াও বেড়েছে অন্তত ২০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা সরকারকে শিপিং ভাড়া পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব কমানো যায়।