মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক পাল্টা হামলায় অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বিদেশি অভিবাসী শ্রমিক। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর ইরান প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও দূতাবাসে হামলা চালায়। নিহতদের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানি চালক মুরিব জামান, সৌদি আরবে বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোশাররফ হোসেন এবং কুয়েতে ১১ বছর বয়সি ইরানি মেয়েশিশু এলনা আবদুল্লাহ নিয়ার নাম পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকিরা সবাই বিদেশি নাগরিক।
উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতি মূলত এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল। উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় হোটেল, পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১০ মার্চের এক হামলায় ২৯ বছর বয়সি এক নারীর মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে, যদিও ইরান দাবি করেছে তারা কেবল মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
স্বল্পবেতনের এসব অভিবাসী শ্রমিক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন, কারণ তাদের আবাসন এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ এবং কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিন বাইরে যেতে হয়, ফলে হামলার সময় নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।