নাটোরের গুরুদাসপুরে আইন ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জনবসতি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও কৃষিজমির আশপাশে ১১টি ইটভাটা পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র দুটির লাইসেন্স রয়েছে। উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন স্বীকার করেছেন, কোনো ভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। এসব ভাটার কারণে স্থানীয় জনজীবন, পরিবেশ, কৃষিজমি ও পাকা সড়ক হুমকিতে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাটাগুলোর চিমনি নিচু হওয়ায় কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং স্থানীয়দের শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগী এবং ঘনবসতি এলাকার বাসিন্দারা বিশেষ ঝুঁকিতে আছেন। তিন ফসলি জমি ও আবাসিক এলাকার কাছে ভাটা স্থাপন এবং জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও ফসলি জমির মাটি কেটে ভাটায় নেওয়া ও কাঠখড়ি পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ফসলি জমি কমে যাওয়ায় গত বছর এলাকায় ধানের আবাদ প্রায় ১০০ টন কমেছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে সেনাবাহিনীর সহায়তায় অভিযানে নয়টি অবৈধ ইটভাটাকে ২৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, অভিযানের পরও ভাটাগুলো আবার চালু হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন।