গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিনে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বহু মানুষ ইরানে যুদ্ধাহত সাধারণ মানুষের সহায়তায় এক মানবিক উদ্যোগে অংশ নেন। তারা স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, গৃহস্থালি সামগ্রী ও ব্যক্তিগত সম্পদ দান করেন। বুদগামের ৫৫ বছর বয়সি মাসরাত মুখতার নিজের জন্মদিনে বাবার দেওয়া সোনার দুল দান করেন। অনেক পরিবার তামার বাসন, গবাদি পশু, সাইকেল ও সঞ্চয়ের অংশ দিয়েছে। শিশুরাও তাদের মাটির ব্যাংক ভেঙে সাহায্যে এগিয়ে এসেছে।
এই সহমর্মিতা কাশ্মীর ও ইরানের দীর্ঘ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন। প্রায় ছয় শতাব্দী আগে পারস্য থেকে আগত সুফি সাধক মীর সৈয়দ আলী হামাদানির প্রভাবে কাশ্মীরে পারস্য সংস্কৃতির বিস্তার ঘটে। সেই থেকে কাশ্মীরকে ‘ইরান-ই-সগীর’ বা ‘ছোট ইরান’ বলা হয়। কাশ্মীরের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শিয়া মুসলিম হলেও, সুন্নি পরিবারগুলোও ঈদের খরচ কমিয়ে ইরানের ত্রাণ তহবিলে দান করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কোটি রুপি (প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলার) সমপরিমাণ সহায়তা সংগ্রহ হয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে আয়োজকরা দাবি করেছেন, এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ মানবিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।