আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করতে ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করে। কমিশনটি দীর্ঘ পর্যালোচনার পর ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি সরকারের কাছে ৩৫৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে প্রতিবেদনে থাকা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। সংশ্লিষ্টরা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন।
কমিশনের সুপারিশে স্বচ্ছ জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ স্থাপন, নারী আসামির ক্ষেত্রে নারী পুলিশের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বন্ধ, মানবাধিকার কমিশনকে তদন্ত ক্ষমতা প্রদান, র্যাবের কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন, থানাভিত্তিক দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠন, নিয়োগ ও পদোন্নতিতে সততা ও নীতিমালা প্রণয়নসহ ১১টি তাৎক্ষণিক বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে সংস্কার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যেতে পারে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।