সরকারি বিশেষ নিরীক্ষায় পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ২০টি আপত্তিতে ১৩ হাজার ৩৬১ কোটি ৫২ লাখ টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ৮ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ৩৯ হাজার কোটিতে বাড়ার পরও মূল চুক্তির বাইরে ব্যয়, কাজের তুলনায় বেশি বিল এবং নিম্নমানের কাজের বিপরীতে অর্থ ছাড়ের অভিযোগ রয়েছে। নিরীক্ষার সময়কাল ছিল গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মার্চ।
সবচেয়ে বড় আপত্তি ঢাকা-যশোর রেললাইন নির্মাণে, যেখানে নকশা বদলে কাজের পরিমাণ কমলেও শতভাগ বিল দেওয়ায় ২ হাজার ১৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধের অভিযোগ করা হয়েছে। অতিরিক্ত রেল আমদানি, কম গ্রানুলার স্যান্ড ব্যবহার, বিওকিউ বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যে চুক্তিসহ নানা খাতে ক্ষতির কথা বলেছে অডিট। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ কিছু অভিযোগে ব্যাখ্যা দিলেও নিরীক্ষা কর্তৃপক্ষ অধিকাংশ ব্যাখ্যাকে আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য সহায়ক নয় বলেছে।
প্রতিবেদনে অতিরিক্ত অর্থ ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। রেলের ডিজি মো. আফজাল হোসেন বলেছেন, অধিকাংশ আপত্তি নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহার হয়েছে। বর্তমান প্রকল্প পরিচালক নাজনীন আরা কেয়া জানান, আপত্তিগুলোর জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।