ক্ষমতায় আসার ছয় মাস পরও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। ইশতেহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন, ব্যাংকিং ডিভিশন বিলুপ্তি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং বড় খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ছিল।
ইশতেহারে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, অভিজ্ঞ ব্যাংকার, করপোরেট নেতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞদের নিয়ে অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠনের কথাও বলা হয়েছিল। এর আগে আইএমএফের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ সংশোধনের খসড়া তৈরি করা হয়। গত বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে নিয়োগ, বাজেট, আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, জনবল ও নীতিনির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতার বিষয় ছিল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রভাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি দুর্বল করে এবং স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, টেকসই সংস্কারের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকৃত স্বাধীনতা, জবাবদিহিমূলক পর্ষদ, ঋণ অনুমোদন ও আদায় ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংকিং প্রয়োজন। সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ছয় মাসে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পথে এগোয়নি।