বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশের ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদানে এখনো জমি ও ভবনের মতো স্থাবর সম্পদের ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে। মোট ঋণের ৬৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ বা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৬ কোটি টাকা রিয়েল এস্টেট জামানতের বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই হার সামান্য বেড়েছে। তবে এসব বন্ধকী সম্পদের অনেকটাই এখন বিক্রি করা যাচ্ছে না, বিশেষ করে প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের সম্পদ কেনায় বাজারে আগ্রহ কমে গেছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংকগুলো সম্পদভিত্তিক ঋণকেই নিরাপদ মনে করছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রভাবশালী ঋণগ্রহীতা ব্যাংক ঋণের টাকা দিয়ে জমি কিনে পরে সেই জমি বন্ধক রেখে আবার ঋণ নিয়েছেন, যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা সহযোগিতা করেছেন। ফলে বন্ধকী সম্পদ বিক্রি করে খেলাপি ঋণ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও তরুণ উদ্যোক্তারা মনে করেন, ব্যাংকিং খাতের এই স্থাবর সম্পত্তিনির্ভর ঋণপ্রবণতা নতুন ও উদ্ভাবনী ব্যবসার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং অর্থনীতির বৈচিত্র্যকরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।