দ্য প্রিন্ট অবলম্বনে প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে ভারতে কংগ্রেস জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন বর্তমান জেনজির আন্দোলনকে স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার পর নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলেই ভারতীয় গণতন্ত্র সবচেয়ে বড় আঘাতের মুখে পড়েছে বলে লেখকের মূল্যায়ন। আন্দোলনটি স্থায়ী পরিবর্তন আনবে নাকি সরকার আরও দমন-পীড়ন চালাবে, তা নিয়ে নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষণটিতে নির্বাচনভিত্তিক ও উদারনৈতিক গণতন্ত্রের পার্থক্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অবাধ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন ও সর্বজনীন ভোটাধিকার অপরিহার্য হলেও বাক্স্বাধীনতা, সংঘবদ্ধ হওয়ার অধিকার, সুশীল সমাজ এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা ছাড়া গণতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ হয় না। লেখাটির দাবি, ২০১৪ সালের পর ভারতে এসব উদারনৈতিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, কারণ বাক্স্বাধীনতা, সুশীল সমাজ ও সংখ্যালঘু অধিকার আক্রমণের মুখে পড়ে।
লেখাটিতে ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে নির্বাচনি অবক্ষয়ের চূড়ান্ত প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নথি জমা ও ভোটার নিবন্ধনের দায় নাগরিকের ওপর দেওয়ায় দরিদ্রদের ভোটাধিকার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে এতে বলা হয়েছে। জেনজির লড়াইকে তাই বিরোধী দলগুলোর সুবিধার প্রশ্ন নয়, নাগরিকের ভোটাধিকারের নীতি ও পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।