নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুর-দত্তপাড়া-চাটখিল-খিলপাড়া সড়কের প্রায় সাত কিলোমিটার অংশ মেরামত শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই বেহাল হয়ে পড়েছে। ৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এ কাজের বিভিন্ন স্থানে সামান্য বৃষ্টিতেই পিচ উঠে গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে, ফাটল দেখা দিয়েছে এবং জমি ও খালের দিকে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে যাত্রী ও যানচালকেরা দুর্ভোগে পড়ছেন। কাজটি পেয়েছিল মেসার্স সেলিম এন্ড ব্রাদার্স ও নুরুজ্জামান ইঞ্জিনিয়ারিং ফাউন্ডেশন জেবি; কাজটি করেন নোয়াখালীর ঠিকাদার মোরশেদ আলম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী, কম বিটুমিন ও দায়সারা কাজের কারণে সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, কার্যাদেশে ৪০ মিলিমিটার পুরু বিটুমিন-পাথরের ঢালাইয়ের কথা থাকলেও অনেক স্থানে ২৫ থেকে ৩০ মিলিমিটার ঢালাই দেওয়া হয়েছে। গাইড ওয়াল নির্মাণ, মাটি ভরাট ও রোলার দিয়ে ম্যাকাডম করার নিয়মও মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে ১২ থেকে ১৩টি স্থানে সড়কের অংশ ধসে গেছে; সেখানে বালুর বস্তা ও কালো পলিথিন দিয়ে সাময়িক ঢেকে রাখা হয়েছে।
ঠিকাদার মোরশেদ আলম বলেন, অনুমোদনের চেয়ে বেশি গাইড ওয়াল নির্মাণ করেছেন এবং নিয়মবহির্ভূত পানির পাইপলাইন বসাতে প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক খোঁড়ার কারণে কিছু জায়গা দেবে গেছে। সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কিছু অনিয়মের কথা স্বীকার করে মেরামতের কথা জানান। নির্বাহী প্রকৌশলীও অনিয়ম স্বীকার করে ভারী বৃষ্টির কারণে সমস্যা হয়েছে বলে জানান এবং তিন বছরের ডিফেক্ট লায়াবিলিটি সময়ে ঠিকাদারকে ত্রুটি সারাতে হবে বলে উল্লেখ করেন।