মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকার পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি করলেও পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে এবং মালিকরা চাহিদার অর্ধেক তেল পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে পরে তা প্রত্যাহার করলেও সংকট কাটেনি। বিভিন্ন দপ্তর, বিপণন প্রতিষ্ঠান ও ডিলারদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও অংশীজনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই এ সংকটের মূল কারণ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সমন্বিত পদক্ষেপ না নেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) আগেই বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সতর্কতা ও দশটি সুপারিশ দিয়েছিল, কিন্তু সরকার তা বিবেচনায় নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া, জ্বালানি সাশ্রয়ী কর্মসূচি গ্রহণ এবং গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা সতর্ক করেছেন, সংকটকে উপেক্ষা করলে এর প্রভাব অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে আরও গভীর হবে।