পিরোজপুরের নেছারাবাদে ভাসমান পেয়ারা বাজার জমে উঠলেও হিমাগারের অভাবে প্রতি বছর কোটি টাকার পেয়ারা নষ্ট হচ্ছে বলে চাষিরা জানিয়েছেন। ন্যায্য দাম না পাওয়া, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের অভাব এবং রপ্তানি বন্ধ থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়ছেন। বর্ষা মৌসুমে, বিশেষ করে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, নেছারাবাদ ও ঝালকাঠি সীমান্তবর্তী খালের মোহনার এই বাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড় থাকে।
নেছারাবাদ-সংলগ্ন বানারিপাড়া ও ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৪টি গ্রামে প্রায় চার হাজার পেয়ারাচাষি রয়েছেন। বিভাগীয় কৃষি অফিসের হিসাবে, তিনটি উপজেলার ২৩ গ্রামে ৮৭৮ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ হাজার ২২০টি পেয়ারাবাগান আছে এবং পরিচর্যা থেকে বিক্রি পর্যন্ত প্রায় ১৬ হাজার শ্রমজীবী মানুষ যুক্ত। চাষিদের প্রধান আয়ের উৎস এই ফল হলেও বাগান পরিচর্যার খরচ বেশি হওয়ায় তারা সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ চান।
চাষি বিনয় হালদার হিমাগারের অভাবে কয়েক কোটি টাকার পেয়ারার ক্ষতির কথা বলেন। কৃষক কালীদাশ মণ্ডল জানান, মৌসুমে তাঁর চার বাগানে প্রায় তিন টন পেয়ারার উৎপাদন হয় এবং মণপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করে সীমিত লাভ পান। ২০২০ সালে রপ্তানি বন্ধ হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাফুজুর রহমান সরকারি হিমাগার নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাবেন বলে জানিয়েছেন।