যশোরের চাঁচড়া দশমহাবিদ্যা মন্দির চত্বরের একটি কুটির থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী শিপ্রা ঘোষের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, মন্দিরের অধ্যক্ষ ও ইসকন নেতা অনুপম রায় ওরফে অপার গোবিন্দ দাসের যৌন হয়রানি ও অসদাচরণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে শিপ্রা আত্মহত্যা করেছে। অপার গোবিন্দ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ বলেছে, তদন্তে কেউ অপরাধী প্রমাণিত হলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
মৃত্যুর পর স্বজন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ করে বিচার দাবি করেন। শিপ্রার ভাইয়ের দাবি, লিখিত অভিযোগ থেকে যৌন হয়রানির বিষয় বাদ দিয়ে পুলিশ তা লিপিবদ্ধ করেছে; কোতোয়ালি থানার ওসি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এক ডেপুটি সিভিল সার্জন বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণের সুযোগ নেই। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে মন্দিরে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, উচ্ছেদের চেষ্টা, আর্থিক অনিয়ম ও আজানের সময় উচ্চশব্দে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর অভিযোগও ওঠে, যা অপার গোবিন্দ অস্বীকার করেন।
শিপ্রার মৃত্যু, পরিবারের অভিযোগ, মন্দির অধ্যক্ষের ভূমিকা এবং চত্বরের দীর্ঘদিনের বিরোধ তদন্তে রাইটস যশোর একটি কমিটি গঠন করেছে। শিপ্রার পরিবার ও অন্য বাসিন্দারা অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার এবং ঐতিহাসিক মন্দিরটিকে ইসকনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।