মানিকগঞ্জের শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট, যাতায়াত দুর্ভোগ, আবাসনের অভাব, নদীভাঙন ও দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উত্তাল নদী পেরিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং অভিভাবকদের মধ্যে শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে সীমিত সচেতনতাও নিয়মিত পাঠদান ও উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন করে তুলছে।
তিন উপজেলায় মোট ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ২৩৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। হরিরামপুরে ৪৯ জন, শিবালয়ে ১৭ জন ও দৌলতপুরে ১৬৯ জন শিক্ষক কর্মরত। সুতালড়ি রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বর্তমানে নেই। আটটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই এবং অনেক বিদ্যালয়ে একাধিক সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য। অনেক শিক্ষককে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয়।
এনায়েতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরমান আলী জানান, তাঁর প্রতিদিনের যাতায়াতে প্রায় দুই ঘণ্টা ও ৩০০ টাকা খরচ হয়; বর্ষায় সময় ও খরচ বাড়ে, কিন্তু কোনো ভাতা নেই। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গকুল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, একটি পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে এবং শেষ হলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। জেলা প্রশাসক নাজমুন সুলতানা চরাঞ্চলে শিক্ষকদের আবাসনব্যবস্থা করার কথা ভাবার কথা জানিয়েছেন।