বগুড়া, জয়পুরহাট ও রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে এ মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়েছেন। পাইকারি বাজারে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৮–১২ টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে উৎপাদন খরচ ১৪–১৮ টাকা। ফলে বিঘাপ্রতি ১৫–২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত দুই মৌসুমে তিন জেলার মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০০–১৫০০ কোটি টাকায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলুর আবাদ ও ফলন ১০–১৫ শতাংশ বেড়েছে, কিন্তু ন্যূনতম মূল্য সুরক্ষা না থাকায় কৃষকের আয় কমেছে। কোল্ড স্টোরেজে মণপ্রতি ভাড়া ৩০০–৪০০ টাকা হওয়ায় এবং করপোরেট গ্রাহক ও ফড়িয়াদের অগ্রিম বুকিংয়ের কারণে অনেক কৃষক সেখানে আলু সংরক্ষণ করতে পারছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে তারা মাঠ থেকেই কম দামে বিক্রি করছেন।
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারদর নির্ধারণ কৃষি বিপণন বিভাগের দায়িত্ব। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধানের মতো আলুর জন্যও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কাঠামো চালু করা জরুরি, নইলে কৃষকরা ধীরে ধীরে আলু চাষ থেকে সরে যাবেন।