২০২৬ সালের ১৮ মে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মরক্কোর ফেজ শহরে অবস্থিত আল-কারউয়্যিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে ফাতিমা আল-ফিহরি তার উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ দিয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে এটি একটি মসজিদ হিসেবে গড়ে উঠলেও পরবর্তীতে ইবাদত ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি মুসলিম বিশ্বের জ্ঞান উৎপাদন ও চিন্তার বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
এখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আরবি ভাষা, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও চিকিৎসাশাস্ত্র পড়ানো হতো। মুসলিম সভ্যতার স্বর্ণযুগে এটি ইউরোপ ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে জ্ঞান ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেছে। ইবনে খালদুন, ইবনে রুশদ ও মোহাম্মদ আল-ইদ্রিসির মতো খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিভিন্ন শাসকের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি সম্প্রসারিত হয় এবং বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন কার্যকর গ্রন্থাগার গড়ে ওঠে।
ইউনেসকো ও গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস আল-কারউয়্যিনকে বিশ্বের প্রাচীনতম ধারাবাহিকভাবে কার্যকর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৬৩ সালে মরক্কো সরকার এটিকে আধুনিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করে, তবে এর ঐতিহ্য ও ধর্মীয় শিক্ষার ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।