মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এবার পাহাড়ি টিলায় আনারসের বাম্পার ফলন হলেও পর্যাপ্ত হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা না থাকায় চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জেলায় সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে হানিকুইন জাতের আনারস, যার চাহিদা দেশজুড়ে বেশি। কিন্তু সংরক্ষণের অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ আনারস নষ্ট হচ্ছে, ফলে উৎপাদন বাড়লেও দাম পড়ে যাচ্ছে এবং কৃষকেরা লোকসান গুনছেন।
চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, একসঙ্গে অনেক আনারস পেকে গেলে দ্রুত বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় আড়তগুলোতে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার আনারস কেনাবেচা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি আধুনিক হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছেন, যাতে উৎপাদিত আনারস সংরক্ষণ করে ন্যায্য দাম পাওয়া যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় ১,২২৩ হেক্টর জমিতে প্রায় ২২,৭৭৪ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদিত হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আনারস এখন মৌলভীবাজারের অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা হলেও সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা উন্নয়ন না হলে কৃষকেরা পূর্ণ সুফল পাবেন না।