বগুড়া শহরের প্রবেশদ্বার বনানীতে অবস্থিত শতবর্ষী বগুড়া রেশম বীজ গবেষণাগার চলতি বছরে শ্রমিক সংকট কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশের মাত্র দুটি রেশম বীজ গবেষণাগারের একটি এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালে আংশিক কার্যক্রম শুরু করেছিল। তবে স্থায়ী জনবলের বড় ঘাটতি এখনো রয়ে গেছে, যদিও গড়ে ২০ জন কৃষক নিয়মিত কাজ করছেন।
১০১ বিঘা জমির ওপর ১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত গবেষণাগারটি রেশম বীজ, কাঁচা রেশম গুটি এবং রেশম পোকার খাদ্য তুঁতগাছের চারা উৎপাদন ও সরবরাহ করে। গত তিন বছরে এখানে এক হাজার ৬৫৪ কেজি কাঁচা রেশম গুটি উৎপাদিত হয়েছে, যা জয়পুরহাট ও রাজশাহীর রেশম কারখানায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বছরে গড়ে তিন হাজার কেজি কাঁচা রেশম সরবরাহ করে এবং গত বছর দেশের বিভিন্ন এলাকায় এক লাখ ৬০ হাজার তুঁতচারা বিতরণ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ৩০টি পদের মধ্যে ২৫টিই শূন্য। দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালককে বগুড়ার পাশাপাশি আরও দুটি জেলার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আগে বেসরকারিভাবে লিজ দেওয়ার পর উৎপাদনে স্থবিরতা দেখা দেয়। শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, প্রয়োজনীয় নিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হলে প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন অভ্যন্তরীণ রেশম সুতার চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।