প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর টানা দশ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। নাফ নদী দিয়ে পণ্য পরিবহন ও সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন। হাজারেরও বেশি বন্দরশ্রমিক কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বন্দর সচল করতে।
স্থলবন্দর ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, মিয়ানমারের ব্যবসায়ীদের কাছে কোটি কোটি টাকা আটকা পড়ে আছে এবং গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। টেকনাফ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জানান, ব্যবসা বন্ধ থাকায় ব্যাংক ঋণের কিস্তি, অফিস ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এবং সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
বন্দর বন্ধ থাকায় সরকারও কাঠ, শুঁটকি, আদা ও পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের আমদানি থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে। রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ থেকে বাণিজ্য পুনরায় চালুর সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি, যদিও ব্যবসায়ীরা মনে করেন কূটনৈতিক উদ্যোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব।