বাংলাদেশের কারাগারে বর্তমানে ৯৩ জন নারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন, তবে স্বাধীনতার পর থেকে এখনো কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকর হয়নি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৯ মে মিরপুরের রামিসা হত্যা মামলায় স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত, পরে তাকে কনডেম সেলে পাঠানো হয়। কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫০ জন নারী কাশিমপুর মহিলা কারাগারের কনডেম সেলে আছেন, যেখানে তাদের আলাদা রাখা হয় এবং কোনো কাজ দেওয়া হয় না।
আইনজ্ঞদের মতে, নারীদের ফাঁসি কার্যকরে আইনি বাধা না থাকলেও জটিলতা ও মানবিক বিবেচনা রয়েছে। আপিল বিভাগে গেলে অনেক সময় মৃত্যুদণ্ড কমে যাবজ্জীবন হয়। ২০০৭ সালে উদ্বোধন হওয়া কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ নেই, কারণ দেশে কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকরের নজির নেই। আইনজীবীরা বলেন, নারীরা সচরাচর এককভাবে খুনের সঙ্গে জড়িত থাকেন না, যা আদালতের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
কারা সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারীরা সীমিত সময়ের জন্য সেলের বাইরে যেতে পারেন এবং মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। দীর্ঘদিন কনডেম সেলে থাকায় অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। মানবাধিকার চুক্তি ও সামাজিক সহানুভূতিও নারীদের ফাঁসি কার্যকর না হওয়ার অন্যতম কারণ।