রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম ৪ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক নিবন্ধে ২০২৪ সালের ‘জুলাই ৩৬’-কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে গণতান্ত্রিক জবাবদিহি, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের প্রত্যাশার বিস্তৃত প্রকাশে রূপ নেয়। লেখক একে একটি প্রজন্মের রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশ এবং গণঅভ্যুত্থান হিসেবে দেখেছেন।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থানের সংকট, প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্ন, রাজনৈতিক মেরূকরণ ও তরুণদের ভবিষ্যৎ-অনিশ্চয়তা আন্দোলনের সামাজিক ভিত্তি প্রসারিত করে। শিক্ষার্থী ছাড়াও শিক্ষক, অভিভাবক, আইনজীবী, চিকিৎসক, শিল্পী, লেখক, শ্রমজীবী মানুষ, সাধারণ জনগণ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা সংহতি জানান। স্মার্টফোন, লাইভ ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নাগরিক সাংবাদিকতা আন্দোলনটিকে দ্রুত আন্তর্জাতিক আলোচনায় নিয়ে যায় বলে লেখকের পর্যবেক্ষণ।
লেখক মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার আন্তর্জাতিক প্রতিফলন বিনিয়োগ, বাণিজ্য, উন্নয়ন সহযোগিতা ও দেশের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গ্রহণ এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। টেকসই পরিবর্তনের জন্য বিচারব্যবস্থা, নির্বাচনব্যবস্থা, প্রশাসন, পুলিশ, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি বলেও নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।